Our domain name for this category of business is www.kobita.net.au 


NICE POEMS

  • Bangla
  • English


সবার আমি ছাত্র

-----------

- সুনির্মল বসু

-----------

Road To Mist Mountain At Sunrise Stock Photo

Image: freedigitalphotos.net

আকাশ আমায় শিক্ষা দিল

উদার হতে ভাইরে

কর্মী হবার মন্ত্র আমি

বায়ুর কাছে পাইরে

পাহাড় শেখায় তাহার সমান

হই যেন রে মৌন মহান


বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র

নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবা রাত্র


[ কবি পরিচিতি – শান্তা বিশ্বাস ] কবি সুনির্মল বসু বাংলা সাহিত্যের এক জনপ্রিয় নাম  তিনি বাংলা সাহিত্যের শিশু সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম  এই বিখ্যাত কবি ১৯০২ সালে বিহারের গিরিদিহ তে জন্ম গ্রহন করেন  তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ "হাওয়ার দোলা" তাঁর কবিতায় সরল ভাষায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় তাঁর কিছু জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে রয়েছে সব-পেয়েছির দেশে, আমরা কিশোর, সব করেছে মাটি, ওরে বাবা ওটা কেরে, আলোর মৌচাক, সামিয়ানা, হবু চন্দ্রের আইন ইত্যাদি তিনি ১৯০২ সালে মৃত্যু বরণ করেন l


lllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllll 

                            সোনার তরী

               রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘঘন বরষা

কূলে একা বসে আছিনাহি ভরসা

রাশি রাশি ভারা ভারা

ধান কাটা হল সারা,

ভরা নদী ক্ষুরধারা

খরপরশা

কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা

 

একখানি ছোটো খেতআমি একেলা,

চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা 

পরপারে দেখি আঁকা

তরুছায়ামসী-মাখা

গ্রামখানি মেঘে ঢাকা

প্রভাতবেলা -

 পারেতে ছোটো খেতআমি একেলা 

 

গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে ,

দেখে যেন মনে হয়চিনি উহারে 

ভরা-পালে চলে যায়,

কোনো দিকে নাহি চায়,

ঢেউগুলি নিরুপায়

ভাঙ্গে দু ধারে-

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে 

 

ওগোতুমি কোথা যাও কোন্ বিদেশে ?

বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে 

যেয়ো যেথা যেতে চাও,

যারে খুশি তারে দাও,

শুধু তুমি নিয়ে যাও

ক্ষণিক হেসে

আমার সোনার ধান কূলেতে এসে

 

যত চাও তত লও তরণী-' পরে

আর আছে ?-আর নাইদিয়েছি ভরে 

এতকাল নদীকূলে

যাহা লয়ে ছিনু ভুলে

সকলই দিলাম তুলে

থরে বিথরে-

এখন আমারে লহো করুণা 'রে

 

ঠাঁই নাইঠাঁই নাইছোটো সে তরী

আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি 

শ্রাবণগগন ঘিরে

ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,

শূণ্য নদীর তীরে

রহিনু পড়ি -

যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী 

 

সোনার তরীর ভাবার্থ/জীবনাদর্শন

সোনার তরী কবিতায় কবি জীবনকে এক বিশেষ প্রতীক রূপে তুলে ধরেছেনমহাকালের চিরন্তন সত্য মৃত্যুকে মানুষ এড়িয়ে যেতে পারেনা। মৃত্যুএক অনিবার্যবিষয়যদিও মৃত্যুকে এড়ানো যায়না কিন্তু মানুষের কর্ম বা তার সৃষ্ট সোনার ফসল টিকে থাকেএকই ভাবে কবির সৃষ্টিকর্ম বা কবিতাকালের সোনার তরীতে স্থান পেলেও কবির স্থান নৌকাতে হয়নিকবি জীবনের উপকূলে বসে যত ধান সঞ্চয় করেছিলেন সোনার তরীর নাবিক এসে সবনিয়ে গেলেও কবির ঠাঁই তরণীতে হয়নি এক অতৃপ্তির বেদনা নিয়ে তাকে অপেক্ষা করতে হয়মহাকালের শূণ্যতায় বিলীন হওয়ার জন্য

মহাকাল আমাদেরসোনার ধান নিয়ে যায় তার খেয়াপারে আর ফেলেরেখে যায় আমাদের শূণ্য করেমানুষ বাঁচে তার কর্ম দিয়ে এটি জীবনের মহাসত্য  সত্য সুদূরঅতীত থেকে শুরু হয়েছে এবং অনাগত ভবিষ্যত পর্যন্ত চলতে থাকবে  

 

শব্দার্থ  টিকা

তরীর মাঝিমহাকালের প্রতীক

বাঁকা জলকালস্রোতর প্রতীক

গগনআকাশ

ভরা ভরাবহুবোঝাবোঝা

ক্ষুরধারাক্ষুরের মত ধারালো যে প্রবাহ বা স্রোত

খরপরশাধারালো বর্ষা

তরুছায়ামসীমাখাগাছপালার কালচে রং মাখা  

ক্ষণিককিছুক্ষণ                       

নিরুপায়উপায়হীন

রহিনু - রইলাম

ভারা ভারা

শ্রাবণগগন  - শ্রাবণের আকাশ

থরে বিথরে  - পর্যায় ক্রমে

রহিনু - রইলাম 

কবিতা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ – শান্তা বিশ্বাস

llllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllll     

llllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllll


llllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllll


কাজলা দিদি

যতীন্দ্রমোহন বাগচী

 

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর পারে লেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না তাইতো জেগে রই-
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?


সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন, দিদি বলে ডাকি তখন,
ওঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি তুমি কেন চুপটি করে থাকো?


বল মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে!
দিদির মত ফাঁকি দিয়ে, আমিও যদি লুকাই গিয়ে
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে
আমিও নাই-দিদিও নাই- কেমন মজা হবে l


ভুঁই চাপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল l
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
উড়িয়ে তুমি দিও না মা, ছিঁড়তে গিয়ে ফল
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবি কি মা বল!


বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই-
এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?
লেবুর ধারে পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতে জেগে রই
রাত্রি হলো মাগো আমার কাজলা দিদি কই?

 

কাজলা দিদি কবিতাটি কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর একটি অসাধারণ শোকবিধুর কাব্য গাঁথা যা তাকে পৃথিবী বিখ্যাত করে তুলেছিল কবিতাটি সব কালের পাঠকদেরই কাঁদায় দিদি হারা একটা ছোট্ট মেয়েদিন রাত দিদিকে খুঁজে ফিরে মায়ের আঁচল ধরে কত প্রশ্ন করে মা দিদির কথায় আঁচলে মুখ লুকায় হারিয়ে যাওয়া এই দিদির নাম কাজলা কবিও কবিতার নামকরণ করেন কাজলা দিদি কাজলা দিদি পড়ে চোখের জল পড়েনি

এমন পাঠক সম্ভবত কেউ নেই 

 

শব্দার্থ  টিকা-

 

শোলক-গল্প

রাত্রি-রাত

ভুঁই চাপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের  তল- চাঁপাফুল শিউলি গাছের নিচে পড়ে লাল হয়ে গেছে  

দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? –মায়ের গোপন কান্না

 

কবিতা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ তাসফি আহমেদ

 




llllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllllll


The Road Not Taken

By Robert Frost


Two roads diverged in a yellow wood, 
And sorry I could not travel both 
And be one traveler, long I stood 
And looked down one as far as I could 
To where it bent in the undergrowth; 

Then took the other, as just as fair, 
And having perhaps the better claim, 
Because it was grassy and wanted wear; 
Though as for that the passing there 
Had worn them really about the same, 

And both that morning equally lay 
In leaves no step had trodden black. 
Oh, I kept the first for another day! 
Yet knowing how way leads on to way, 
I doubted if I should ever come back. 

I shall be telling this with a sigh 
Somewhere ages and ages hence: 
Two roads diverged in a wood, and I— 
I took the one less traveled by, 
And that has made all the difference.